লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা এখন যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, যথাযথ খননের অভাব এবং নদী দখলের কারণে ভূলুয়া নদী আজ দুর্ভোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়রা জানান, চর কাদিরা ইউনিয়নের ভূলুয়া নদীর উপর নির্মিত সাতটি সুইচগেটের মধ্যে ছয়টি বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। প্রতিবছরই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, নদীর দুইপাশে কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ৪০টির অধিক দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে রেখেছেন। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে গেছে এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, গত বছরও জলাবদ্ধতায় কয়েক লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তখন সামাজিকভাবে নদী খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন হলেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। এখন আর কেউ সোচ্চার হচ্ছেন না, যেন সবাই নিরবতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
এই সংকট নিরসনের দাবিতে সম্প্রতি কমলনগর ও রামগতি উপজেলার প্রতিনিধিদল লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের (DC Lakshmipur) কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন—
অধ্যক্ষ আব্দুস সহিদ
মুফতি মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম
মাওলানা আ হ ম নোমান সিরাজী
মাওলানা হোসাইন আহমদ
মাওলানা তাজুল ইসলাম
মুফতি নুরুল্লাহ খালেদ
জোবায়ের হোসেন
রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার ও সার্ভেয়ার ভূলুয়া নদীর জলাবদ্ধতা কবলিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কবে নাগাদ কার্যকর খনন কার্যক্রম শুরু হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্থানীয় জনগণ।
চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—অবিলম্বে ভুলুয়া নদী খনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক প্রশাসন। নচেৎ প্রতি বছর এমন দুর্ভোগই তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়াবে।
%20(7).jpeg)