ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
বিস্তারিত দেখুন
সময় বাকি: লোডিং...

২০২৭ সাল থেকে স্কুল ভর্তি লটারি পদ্ধতি বাতিল, নতুন পদ্ধতি আসছে

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত আর লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সারাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে যে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট সময় পর আর বহাল থাকবে না। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুন্না রাণী বিশ্বাসের সই করা আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা শেষ হবে এবং নতুন ভর্তি নীতিমালা চালু করা হবে। এতে আরও বলা হয়, লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হবে। 
অর্থাৎ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি নতুন ভর্তি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এর ফলে পূর্বে জারি করা সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত দুটি নীতিমালা—যেগুলো ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ও ১৯ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল—তা বাতিল বলে গণ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভর্তি পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন, যোগ্যতা যাচাই অথবা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কোনো পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা চলছে। 
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি সুষ্ঠু ও ন্যায্য ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ লটারি পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন।
 অনেকেই মনে করতেন, এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না এবং ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি ভর্তি ব্যবস্থা চালু করতে চায়, যা একদিকে যেমন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে। এ জন্য একটি আধুনিক, বাস্তবসম্মত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, লটারি পদ্ধতি একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে নতুন প্রেক্ষাপটে আরও উন্নত ও ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
 সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকার যদি অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।