পুলিশ প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ যেন না ওঠে এবং সাধারণ ভোটারের কাছে পুলিশের পেশাদার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকে—এ লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়কে সংবেদনশীল বিবেচনা করে সদস্যদের প্রতিটি আচরণে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো প্রার্থী, তাদের প্রতিনিধিত্বকারী এজেন্ট কিংবা সমর্থকদের কাছ থেকে খাবার, আপ্যায়ন বা উপহার গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইভাবে প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তোলা, অযথা ঘনিষ্ঠতা দেখানো বা দীর্ঘ আলাপচারিতায় জড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। এতে ভোটারদের মনে পক্ষপাতের ধারণা তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা ভোটকক্ষে ঢুকতে পারবেন না। কোনো ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রার্থী বা প্রতীকের দিকে প্রভাবিত করা, ভোটদানে অযথা বাধা সৃষ্টি করা বা প্রয়োজন ছাড়া ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপরও নজরদারি থাকবে। নির্বাচনের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল, সভা বা কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা যাবে না এবং ব্যক্তিগত মতাদর্শ প্রকাশ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট দেওয়া, শেয়ার করা বা মন্তব্য করাও দায়িত্বশীল আচরণের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হবে। দায়িত্ব পালনকালে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার, ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আলোচনা বা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটলে অনুমোদন ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করে অন্যত্র পাঠানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। পুলিশ সদস্যদের জনসমক্ষে আচরণ সম্পর্কেও আলাদা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ডিউটির সময় অযথা আড্ডা দেওয়া, দলবেঁধে ঘোরাফেরা, উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক, গালিগালাজ বা কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না।
এমনকি প্রকাশ্যে যত্রতত্র বসে খাবার খাওয়া, টং দোকান বা ফুটপাতে বসে সময় কাটানো এবং অপ্রাসঙ্গিক পোশাক পরিধান থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে—যাতে জনগণের কাছে বাহিনীর শৃঙ্খলাবোধ স্পষ্ট থাকে। পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা গেলে ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো সন্দেহ বা বিতর্ক কমে আসবে। লক্ষ্য একটাই—নাগরিকরা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।
