এবারের ভোটে ভোটারদের একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা হবে। প্রত্যেক ভোটারকে দুটি আলাদা ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে। সাদা রঙের ব্যালটটি থাকবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য, আর গোলাপি রঙের ব্যালটের মাধ্যমে নেওয়া হবে গণভোটে মতামত। কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের পর নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটারদের এই দুই ব্যালট বুঝিয়ে দেবেন এবং আলাদা বাক্সে ফেলার নির্দেশনা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী কেন্দ্র পাহারা থেকে শুরু করে টহল—সবকিছুতেই থাকবে সক্রিয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা পরিকল্পনা তিন ধাপে সাজানো হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সদস্য মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি থাকবে ভ্রাম্যমাণ টিম যারা আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দেবে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স, যারা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। পুলিশ প্রধান বাহারুল আলম বলেছেন, এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির কারণে সংগঠিতভাবে নির্বাচন বানচাল করার সুযোগ কারও নেই। তবে বিচ্ছিন্ন অপরাধ—যেমন চুরি, ডাকাতি বা সহিংসতার ঘটনা একেবারে অসম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, এমন কিছু ঘটলেও ভোটের কার্যক্রম বন্ধ হবে না এবং প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মাঝারি ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রশাসন বলছে, ভোটাররা যেন নিশ্চিন্তে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের মতামত দিতে পারেন—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এতো আয়োজন। এখন চোখ ভোটের দিনের দিকে, উপস্থিতি আর পরিবেশই বলে দেবে নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ হয়।
